পঞ্চায়াত ব্যবস্থাপনা। Wb gram panchayat recruitment syllabus. Bangla GK Part-1
আমাদের আজকের আলোচ্য বিষয় হল- Wb gram panchayat recruitment 2026 syllabus. Bangla GK Part-1 আমরা Panchayat Recruitment– এর সিলেবাস ও সম্ভাব্য প্রশ্ন নিয়ে সম্পূর্ণ একটি কোর্স থাকবে। আজকে শুধু পঞ্চায়াত ব্যবস্থাপনা নিয়ে আলোচনা করবো।

পশ্চিমবঙ্গের গ্রামীণ শাসনব্যবস্থাপনা হলো পঞ্চায়াত ব্যবস্থাপনা। ১৮৭০ সালে গ্রামবাংলার চৌকিদারি আইনের মাধ্যমে গ্রামীণ স্বায়ত্তশাসনের যে যাত্রা শুরু হয়েছিল, তার বিভিন্ন পরিবর্তনের মাধ্যমে এই পঞ্চায়াতব্যবস্থায় রূপান্তরিত হয়। পঞ্চায়েত শব্দটির উৎপত্তি হয়েছে পাঁচ বা পঞ্চ থেকে। আমাদের প্রাচীন ভারতে পাঁচজন সদস্য নিয়ে স্বশাসিত ও স্বনির্ভর গ্রামীণ পরিষদ গঠিত হত এবং তাকেই পঞ্চায়াত নামে অভিহিত করা হয়।
সেই থেকে স্বশাসিত গ্রামীণ শাসনব্যবস্থাপনা কে পঞ্চায়াত বলা হয়। যুগের অগ্রগতি এবং ভারতের সংবিধানে নির্দেশাত্মক নীতির সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে বর্তমান সংবিধান প্রবর্তিত হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে ১৯৫০ খ্রিঃ পশ্চিমবঙ্গের শাসনব্যবস্থাপনা প্রবর্তন চেষ্টা শুরু হয়। ১৯৫৭ সালে পশ্চিমবঙ্গের পঞ্চায়াত আইন বিধিবদ্ধ হয়। ১৯৫৭ এবং ১৯৬৩ সালে পশ্চিমবঙ্গের পঞ্চায়াত ব্যবস্থাপনা আইন অনুযায়ী চারটি স্তর বিশিষ্ট পঞ্চায়াত স্তর গঠিত হয়। যেমন- ক। গ্রাম পঞ্চায়াত (গ্রাম পর্যায়ে) খ। অঞ্চল পঞ্চায়াত ( উইনিয়ান বোর্ডস্তর ) গ। আঞ্চালিক পরিষদ ( ব্লক পর্যায়ে) ঘ। জেলাপরিষদ (জেলা স্তরে)
ত্রিস্তর পঞ্চায়াতব্যবস্থা
১৯৭৩ সালে পশ্চিমবঙ্গে একটি নতুন পঞ্চায়েত আইনে প্রবর্তন করেন। এই আইনের দ্বারা পশ্চিমবঙ্গের চার স্তর পঞ্চায়েত থেকে তিন স্তর পঞ্চায়াত ব্যবস্থা করা হয়। এই তিনটি স্তর হল- ১। গ্রাম পঞ্চায়াত ২। পঞ্চায়াত সমিতি ৩। জেলা পরিষদ।
১। গ্রাম পঞ্চায়াত
পশ্চিমবঙ্গের ত্রিস্তর পঞ্চায়াতব্যবস্থাপনার সর্ব নিম্নস্তর কে গ্রাম পঞ্চায়াত বলে। ১৯৭৩ সালে পঞ্চায়াত আইন আনুসারে পশ্চিমবঙ্গের ত্রিস্তর বিশিষ্ট পঞ্চায়াতব্যবস্থা প্রবর্তিত হয়েছে। এই ব্যবস্থায় প্রতিটি জেলা কে কয়েকটি ব্লকে বিভক্ত করা হয়েছে, আবার কয়েকটি ব্লক কে গ্রামে বিভক্ত করা হয়েছে। একটি মৌজা বা পাশাপাশি কয়েকটি মৌজা নিয়ে গ্রাম গঠিত হয়। এই ভাবে গঠিত প্রতিটা গ্রামে, ওই গ্রামের নামে গ্রাম পঞ্চায়াত থাকে। গ্রাম পঞ্চায়াত হল একটি যৌথ সংস্থা।
গ্রাম পঞ্চায়াত গঠন কিভাবে হয়।
গ্রাম পঞ্চায়াত ৫০থেকে ৫০ জন সদস্য নিয়ে গঠিত হয়। ভোট দাতার সংখ্যা অনুযায়ী গ্রাম পঞ্চায়েতের সদস্য সংখ্যা নির্ধারণ করা হয়। এই গ্রাম পঞ্চায়াত এলাকা কে বেস কয়েকটি নির্বাচনী এলাকায় বিভক্ত করা হয়। বিধানসভার নির্বাচিত প্রতিনিধি দ্বারা পঞ্চায়াত সদস্য দের নির্বাচন করা হয়। গ্রাম পঞ্চায়তের নির্বাচিত সদস্য দের কার্যকাল হল পাঁচ বছর।
গ্রাম পঞ্চায়তের আয়ের উৎস ও কার্য বলি এবং কর্তব্য
- ১। কেন্দ্র ও রাজ্য সরকারের প্রদত্ত সাহায্য ও অনুদান।
- ২। জেলা পরিষদ ও পঞ্চায়াত সমিতি এবং অনন্য স্বয়ত্তশাসিত প্রতিষ্ঠান।
- ৩। কেন্দ্রিয় ও রাজ্য সরকার প্রদত্ত ঋণ।
- ৪। গ্রাম পঞ্চায়তের বিভিন্ন উৎস থেকে আয়। যেমন- কর এবং বিভিন্ন ফী থেকে আয়।
কার্য বলি এবং কর্তব্য
গ্রাম পঞ্চায়তের কার্য বলি এবং কর্তব্য কে তিন ভাগেভাগ করা হয়েছে।
- ১। অবশ্যপালনীয় কর্তব্য।
- ২। অন্যান্য কর্তব্য।
- ৩। ইচ্ছাধীন কর্তব্য।
ক) অবশ্যপালনীয় কর্তব্য।
জনস্বাস্থ্য সংরক্ষণ, আবর্জনা অপসারণ, জলনিষ্কাশন এবং পরিস্কার পরিছন্নতা নিবারণ, ম্যালেরিয়া, বসন্ত, কলেরা রোগ ও অন্য সংক্রমণ রোগ নির্ধারণ করা এবং চিকিৎসার ব্যবস্থা করা। শুদ্ধ পানিয় জলেরে ব্যবস্থা করা ও পরিস্কার পরিছন্ন পরিবেশ এবং জীবাণুমুক্ত পরিবেশ তৈরি করা। সাধারণ মানুষের যাতাযাতের জন্য রাস্তা তৈরি ও মেরামত করা। কর আদায় করা, তথ্য সরবরাহ করা উপরিবিভাগ।
খ) অন্যান্য কর্তব্য।
অন্যান্য কর্তব্য গুলি হল- প্রাথমিক,সামাজিক, কারিগরি ও বৃত্তি মূলক তথা প্রথাবহির্ভূত শিক্ষার ব্যবস্থা করা। গ্রামীণ ঔষধালয়, সাস্থ কেন্দ্র স্থাপন করা এবং মাতৃমঙ্গল ও শিশুমঙ্গল প্রতিষ্ঠান তৈরি করা। গবাদিপশুর উন্নত প্রজনন ব্যবস্থা করা।
গ) ইচ্ছাধীন কর্তব্য।
ক্ষুদ্র সেচ ও জলবিভাকার উন্নতিসাধনঃ রাস্তায় আলোর ব্যবস্থা করা। কুয়ো, পুকুর এবং জলাশয় খনন করা। সমন্বয়মূলক চাষ, দোকান, ব্যবসার প্রবর্তন করা। বাজার, হাট ও মেলা স্থাপন করা। সরকারি ঋণবণ্টন ও পরিশোধের ব্যাপারে সাহায্য করা।
২। পঞ্চায়াত সমিতি
পশ্চিমবঙ্গের ত্রিস্তর পঞ্চায়াতব্যবস্থাপনার দ্বিতীয় স্তর হল পঞ্চায়াত সমিতি। প্রতিটা জেলাকে বেস কয়কটি ব্লকে ভাগ করা হয় এবং প্রতিটি ব্লক স্তরে একটি করে পঞ্চায়াত সমিতি থাকে। ব্লকের নামনুসারে পঞ্চায়াত সমিতির নাম করন করা হয়। এটি একটি যৌথ সংস্থা এবং ব্লক এর উন্নয়নের সার্বিক দায়িত্ব পঃ সমিতির উপর থাকে।
পঞ্চায়াত সমিতি গঠন
পঞ্চায়াত সমিতি গঠিত হয় নিম্নলিখিত সদস্যদের নিয়ে আইননুসারে- পঞ্চায়াত সমিতির এলাকাধিন প্রতিটি গ্রাম পঞ্চাতের প্রধান পদঅধিকার বলে সমিতির সদস্য। প্রতিটি গ্রাম পঞ্চায়াত থেকে বিধানসভার ভোটার তালিকভুক্ত নির্বাচকমণ্ডলীর ভোটে অনধিক তিন জন পঞ্চায়াত সমিতির সদস্য নির্বাচিত হবেন।
পঞ্চায়াত সমিতির আয়ের উৎস
কেন্দ্র ও রাজ্য সরকারের কাছে থেকে সাহায্য ও অনুদান। রাজ্য সরকারে প্রদত্ত ভুমিরাজস্বের অংশ। জেলাপরিষদ ও স্থানীয় স্বায়ত্তশাসিত প্রতিষ্ঠান থেকে সাহায্য ও অনুদান। কেন্দ্র ও রাজ্যর প্রদত্ত ঋণ এবং সমতির নিজ সম্পতির থেকে গৃহীত ঋণ।
পঞ্চায়ত সমিতির কার্যবলি
কুটির শিল্প, কৃষি, গবাদিপশু, গ্রামীণ ঋণ, জনস্বাস্থ্য, হাসপাতাল, ঔষধালয় স্থাপন, যানবাহন, ছাত্রকল্যাণ এবং সমাজ কল্যাণ ইতাদির প্রসার ও উন্নয়ন ও অর্থসাহায্য করা। রাজ্য সরকার বা কোনো প্রতিষ্ঠানের পক্ষ থেকে ভারপ্রাপ্ত হয়ে কোনো কার্যক্রম বা প্রতিষ্ঠান পরিচালনা করা। জেলা পরিষদের প্রচালিত প্রতিষ্ঠানগুলির দেখাশুনা করা। জেলা পরিষদ ও গ্রাম পাঞ্চায়াত কে সাহায্য প্রদান করা।
৩। জেলা পরিষদ।
জেলাপরিষদ হলো পশ্চিমবঙ্গের ত্রিস্তরবিশিষ্ট পঞ্চায়েত ব্যাবস্থার শেষ স্তর। কোলকাতা, দারজিলিং এবং কালিম্পং বাদে পশ্চিমবঙ্গের প্রতিটা জেলার নামানুসারে একটি করে জেলাপরিষদ আছে।
জেলাপরিষদের গঠন।
জেলাপরিষদ গঠনের জন্য নিম্নলিখিত নিয়মগুলি গ্রহন করা হয়-
- ক) জেলার অধিনে যে সকল পঞ্চায়াত সমিতি আছে তার সভাপতিরা পদাধিকারবলে জেলাপরিষদের সদস্য হন।
- খ) মুন্ত্রিরা ছাড়া জেলা থেকে নির্বাচিত বিধানসভা ও লোকসভার সকল সদস্য জেলাপরিষদের সদস্য হন।
- গ) মুন্ত্রি ছাড়া জেলার বসবাসকারী রাজ্জসভার সদস্যরা জেলাপরিষদের সদস্য।
জেলাপরিষদের আয়ের উৎস।
সকল জেলাপরিষদের নামে একটি তহবিল থাকে। জেলাপরিষদের সকল প্রকার আয় সেই তহবিলে জমা থাকে। জেলাপরিষদের আয়ের উৎস হল কেন্দ্র ও রাজ্য সরকারে প্রদত্ত সাহায্য ও অনুদান। রাজ্যসরকারে ভূমি রাজস্ব ও কেন্দ্র এবং রাজ্য সরকারের প্রদত্ত ঋণ। রাস্তাকর ও জনকল্যাণমূলক প্রকল্প থেকে আয়। জেলাপরিষদের মালিকানাভুক্ত বিদ্যালয়, হাসপাতাল, ঘরবাড়ি ছারাও অন্যান্য প্রতিষ্ঠান থেকে আয়।
জেলাপরিষদের কার্যবলি
শিল্প, কৃষি, গবাদিপশু পালন, সমবায় আন্দলন, গ্রামীণ ঋণ প্রদান করা, জল ও সেচ ব্যবস্থা উন্নত করা। জনস্বাস্থ্য, হাসপাতাল, যাতযাতব্যবস্থা, প্রাথমিক শিক্ষা, বয়স্ক শিক্ষা, সমাজকল্যাণমূলক কাজ, জেলাপরিষদের মালিকানাভুক্ত প্রতিষ্ঠানগুলির নজরদারি করা এবং অর্থ সাহায্য করা। শিক্ষাব্যবস্থা, কর্মসংস্থান, গ্রামীণ হাটবাজার ও পরিবেশ রক্ষণাবেক্ষণ ইত্যাদি।
